প্রবন্ধ - আমার চাওয়াগুলো

আমার জীবনের চাওয়াগুলো এতোটাই ক্ষুদ্র যে তুমি শুনলে হাসবে। অনেকেই আছে যারা নারীর জন্য বেঁচে থাকে, অনেকেই বাড়ির জন্য, গাড়ির জন্য কিংবা একগাল দূষিত ধূয়া অথবা এক বোতল স্বর্গীয় পানির জন্য বেঁচে থাকে। আজকাল অনেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য বেঁচে থাকে যদিও তারা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর মারা যায়, আবার হতে না পারলেও মারা যায়।

আমিও একদিন অনেক আশা করেছিলাম কিন্তু চাওয়ার সাহস হয়নি। সবাই যখন তেল মেরে সিঁড়ি বেঁয়ে ছাদে উঠে চাঁদ ছোঁয়ার চেষ্টা করছে আমি তখন কিছুই পারিনি এবং করিনি। অসুন্দরকে সুন্দর বলা যে নিজের সাথে প্রতারণা করা সেটা আমি না বুঝলেও আমার মন ঠিকই বুঝে গেছে।




আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষগুলো দেখতে দেখতে খুশি হয়ে যায়, ঘাসের উপর চিকচিক করা একবিন্দু শিশির  বিন্দু দেখে খুশি হয়ে যায়, মাধবীলতার গন্ধ যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তখন আমি খুশি হয়ে যায়, কোনো এক রমণী যখন পরম সুখে যুবকের কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে চোখ বন্ধ করে তখন আমার মন ভালো হয়ে যায়, যখন কোনো কবি কিংবা যেকোনো মানুষ তার লেখা কিংবা কাজে মানবতাবাদী হয়ে ওঠে তখন আমি খুশি হয়ে যায়, যখন একজোড়া পাখি উড়ে যায়, যখন একজোড়া মানুষ হেঁটে যায়, যখন বাবা কিংবা মা পাখি ছানার মুখে খাবার তুলে দেয় তখন এক স্বর্গীয় আনন্দ আমাকে অবগাহন করে।

যাকিছু আমাকে খুশি করে তা আমাকে সত্যিই খুশি হতে দেয় না যখন আমার উপর চেপে বসে অন্যের চাপিয়ে দেওয়া ভুত। আমার মাথার উপর অথবা কাঁধে একটা ভুত সবসময় বসে থাকে যাকে চাপিয়ে দিয়েছে আমার চারিপাশের মানুষ ও সমাজ। আমি সবসময় সেই ভুত সরাতে ব্যস্ত থাকি আর ভুত সবসময় আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যস্ত থাকে। আমার চারপাশের মানুষগুলোও ভুত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং ভুতের আজ্ঞাবহ। 

আমার জীবনের চাওয়াগুলো খুবই ক্ষুদ্র এবং আজকের দিন পর্যন্ত আমার পাওয়াগুলো সার্থক। তবু্ও আমাকে ভুত সরাতে ব্যস্ত থাকতে হয়। আমি জানি, আজীবন আমার ব্যস্ততা থেকে যাবে এবং ভুত সরানোর কাজ শেষ হবে না। আমি সারাজীবন ভুত সরিয়ে যাবো কিন্তু স্বল্প অবসর পেলে আমি আমার ক্ষুদ্র চাওয়া-পাওয়া নিয়েই আমার সুখের পৃথিবীতে সুখী থাকবো।


© আলমগীর কাইজার 
২৫.০৫.২০১৯




No comments

Powered by Blogger.