গোলাপের সৌন্দর্য - মাওলানা রুমি ০৮
মধ্যরাতে মসজিদের নিকট থেকে
একটি দীর্ঘ কান্নার আওয়াজ আসে,
মৃত্যুপথযাত্রীর কান্না।
সেখানে বসে থাকা যুবকটি কান্না শুনে ভাবে
‘এই শব্দটি আমাকে ভীতু করবে না।
এই শব্দ শুনে কি ভীতু হওয়া উচিত?
এই কান্না হলো উদযাপন ঘোষণাকারী ড্রামের শব্দধ্বনি,
এর মানে আমাদের উচিত আনন্দ-স্যুপ রান্না শুরু করা !’
মৃত্যু-ভয়ের পিছনে তিনি মিলনের গান শোনেন।
‘এখনই সঠিক সময় নিজের মধ্যে মিশে যাওয়ার।’
সে চিৎকার করে লাফিয়ে উঠে স্রষ্টাকে বলে,
‘তুমি যদি আমার ভিতরে আসতে পারো,
তবে এখনই এসো!’
মৃত্যুর চিৎকারের সংকেত তাকে উন্মুক্ত করে।
রহস্য সব দিক থেকে আসতে থাকে,
সোনার মুদ্রা, তরল সোনা, সোনার কাপড়, সোনার বার
সোনার স্তুপ মসজিদের দরজা পর্যন্ত ভর্তি হয়ে যায়।
যুবকটি সারা রাত কাজ করে
সব সোনা বস্তায় ভরে নিয়ে যায়,
মাটির নিচে পুঁতে রাখে
এবং ফিরে আসে আরও কিছু সোনার জন্য ।
অন্যদিকে ভীরুরা সারারাত ঘুমিয়ে কাটায়।
তুমি যদি মনে করো
আমি আসল সোনার কথা বলছি,
তুমি সেই বাচ্চাদের মতো
যারা ভাঙা থালা-বাসনের টুকরোকে টাকা মনে করে,
যখনই তারা ভাঙা থালা-বাসনের টুকরো দেখে
তারা টাকার কথা ভাবে,
যেমন তুমি সোনা শব্দটি শুনলে এটি পেতে চাও।
আমি এক অন্য সোনার কথা বলছি,
যা তোমার বুকের ভিতর জ্বলে, যখন তুমি ভালোবাসো।
মায়াময় মসজিদটি সেখানেই আছে
যেখানে তীক্ষ্ণ কান্না হলো মিনবরে রাখা মোমবাতির শিখা।
যুবকটি এখানে এমন এক পতঙ্গে পরিণত হয়
যে নিজে নিজেই বাজি ধরে এবং জিতে যায়।
একজন বিশুদ্ধ মানুষ আসলে মানুষ নয়!
এই মোমবাতি নিঃশেষ হয় না, শুধু আলোকিত করে।
কিছু মোমবাতি থাকে যারা নিজেরা নিঃশেষ হয়
অন্যদেরকেও নিঃশেষ করে।
অন্যরা একটি ঘরে রাখা গোলাপের সৌন্দর্যের মতো,
তুমি সেখানে ঘুরে বেড়ানো একজন আগন্তুক।

No comments