যন্ত্রণা - মাওলানা রুমি ০৭

তুমি কতটা অহংকারী ছিলে 
সেটা থেকেই যন্ত্রণা আসে, 
তারপর যন্ত্রণাই তোমাকে 
অহংকার থেকে বের করে আনে। 

মায়ের প্রসববেদনা ছাড়া সন্তান জন্মাতে পারে না।
তুমি যদি সত্যিকারের বিশ্বাস নিয়ে গর্ভবতী হও,
নবী এবং সাধুদের বাণী ধাত্রীর মতো সাহায্য করবে
কিন্তু প্রথমে তোমাকে যন্ত্রণা অনুভব করতে হবে।
 যন্ত্রণাহীনতা তোমাকে অহংকারী করে তোলে।

‘আমি এই’, ‘আমি সেই’। 
মানসুর আল-হাল্লাজের মতো ‘আমি খোদা’, 
এটা বলে সত্যের অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
‘আমি’ ভুল সময়ে অভিশাপ আনে
‘আমি’ সঠিক সময়ে আশীর্বাদ এনে দেয়।

যদি একটি মোরগ তাড়াতাড়ি ডাকে, তখনও অন্ধকার 
তার মাথা কেটে ফেলতে হবে!
এই শিরশ্ছেদের মানে কী? 
মোরগকে বাঁচাতে 
কেউ সংগ্রহ করতে পারে বিচ্ছুর হুল, 
পাথর মারা থেকে রক্ষা করার জন্য 
ব্যবহার করতে পারে সাপের বিষ।

মস্তকহীনতা আসে একজন গুরুর সাথে 
তোমার বিশুদ্ধ সংযোগ থেকে।
একজন সত্যিকারের গুরুকে আঁকড়ে ধরো,
তাঁর কাছ থেকে শক্তি আসবে।  
সেই শক্তি তোমাকে তাঁর সাথে আরও ঘনিষ্ঠ করবে।
আত্মার আত্মা, ক্ষণে ক্ষণে তাঁর থেকে 
শ্বাস নেওয়ার আশা করো।  

তুমি কতদিন আলাদা ছিলে, এটা কোনো ব্যাপার না।  
সেই উপস্থিতির মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ নেই।  
তুমি কি এই বন্ধুত্ব সম্পর্কে আরও বুঝতে চাও?  
তাহলে আল-ফজর সূরাটি পড়ো।

কবিতাঃ যন্ত্রণা 
কবিঃ জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি 
অনুবাদঃ আলমগীর কাইজার 
(কোলম্যান বার্কসের দ্য সোল অব রুমি বই থেকে)


No comments

Powered by Blogger.