মানুষ জন্মগতভাবে উগ্রবাদী নয়

আজ পৃথিবী ভালো নেই। মানুষের হাতে পৃথিবীতে বিভক্তি-বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভেদ-বিভক্তি নিয়ে কখনো কথা বলতে নেই তাতে বিভক্তি বাড়ে। বরং আমাদের মাঝে কতটুকু ভালো আছে, কতটুকু মিল আছে তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এতে আমাদের সম্প্রীতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।

পৃথিবীতে একশ্রেণির মানুষ আছে, যারা জাতি-ধর্ম-বর্ণের বিভেদ তৈরি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করে। সেইসব স্বার্থবাদী মানুষগুলোর দর্শনে আদিষ্ট হয়ে কেউকেউ উগ্র মতাদর্শী হয়ে ওঠে। মানুষ জন্মগতভাবে উগ্রবাদী নয়।

আমরা সবসময় ধর্মের কথা বলি অথচ আমরা প্রায়ই ভুলে যায় যে, পৃথিবীর সকল ধর্ম এসেছে শান্তির জন্য, মানুষের সম্প্রীতির জন্য, মানুষকে সুন্দর পথে পরিচালনা করার জন্য কিন্তু সেইসব শান্তির ধর্ম দুষ্টু লোকের হাতে গিয়ে উগ্রবাদী হয়ে ওঠে, বদলে যায় রীতিনীতি।

কোনো মুসলমান ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করলে বিশ্বমিডিয়া তাকে ইসলামিক টেরোরিস্ট আখ্যা দেয়! কিন্তু আমরা কখনোই মিডিয়াতে অন্য কোনো ধর্মের টেরোরিস্টদের কথা লিখতে দেখি না। যদিও ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী সকল ধর্মেই কমবেশি রয়েছে। এধরণের খবর ধর্মীয় বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে শিয়া-সুন্নী ভাগ নিয়ে (আরও অনেক ভাগ আছে) অথচ আমরা ভুলে যাচ্ছি আমরা তো একই ফুলের আলাদা আলাদা পাপড়ি মাত্র, আমাদের ঘ্রাণ তো আলাদা নয়! আমাদের বলতে দ্বিধা নেই কিংবা আমরা সবাই জানি আমাদের বিভক্তির মূল কারণ আমাদের অজ্ঞতা। একসময় ইসলাম নিয়ে গবেষণা হতো, আজ হয় যুদ্ধ।

ইসলামি ইতিহাস নিয়ে শুধু মুসলমানরাই নয়, অনেক ইহুদি-খ্রিস্টান-হিন্দু গবেষকও গবেষণা করে গেছেন। মানুষকে মানুষের সাথে মিলিয়ে দেওয়ার মতো গবেষকের আজ বড়ই অভাব। আজ বরং বিভক্তিকে উসকানি দিয়ে নিজের দল গঠন করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করতে গবেষকেরা ব্যস্ত অথবা যারা গবেষণার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে তাদের গবেষণা করার যোগ্যতা নেই।

আমাদের ভিন্নমত থাকতে পারে, আমাদের ধর্ম ভিন্ন হতে পারে কিন্তু দিনশেষে আমরা মানুষ। আমাদের সৃষ্টিমূল বা উৎপত্তিস্থল একই। আর একই উৎপত্তিস্থল বলেই আজ যখন পৃথিবীর অন্য প্রান্তে মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয় আমাদের মন কেঁদে ওঠে যদিও তাদের সাথে আমাদের কোন পরিচয় নেই, নেই কোনো আত্মীয়তার বন্ধন! সত্যিই কি নেই কোনো বন্ধন? আমাদের জানতে হবে আমাদের ইতিহাস, জানতে হবে আমাদের ভিতরকার সম্পর্ক, যা জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে ভাগাভাগি করা যাবে না। ভাগ-বিভক্ত কিংবা রক্ত ঝরিয়ে নয় বরং ভালোবাসা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে হবে মানুষজাতিকে।

মানুষেরা শান্তিপ্রিয়। শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসাথে বাস করে। মানুষের বসবাসে জাতি-ধর্ম-বর্ণ কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। মানুষ দীর্ঘদিন বসবাস করতে গিয়ে একদিন হয়তো ভুলেই যায় তাদের নিজেদের বিভক্তির কথা। সকল ভেদ ভুলে গিয়ে আত্মার বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে মানুষ। গড়ে ওঠে প্রেম, পরিবার, সমাজ, দেশ। সুন্দর হয়ে ওঠে মানুষের পৃথিবী।

উগ্রবাদিতা ধ্বংস হোক, পৃথিবীর সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ ভালো থাকুক, সুন্দর হয়ে উঠুক মানুষের পৃথিবী।

© আলমগীর কাইজার
১৫.০৩.২০১৯


No comments

Powered by Blogger.