অদৃশ্যের কাজ - মাওলানা রুমি ০৫
নবীগণ বিস্মিত হয়ে নিজেরা নিজেদেরকে বললেন,
‘ঠাণ্ডা লোহাকে আর কতকাল পেটাতে হবে?
শূন্য খাঁচায় আর কতকাল ফিসফিস করতে হবে?’
প্রতিটি সৃষ্ট প্রাণীর
গতি আসে স্রষ্টার কাছ থেকে।
স্রষ্টা প্রথমে উদ্যম দান করেন
তারপর গতিপ্রাপ্ত হয় আত্মা,
এভাবেই শুরু হয়, ভীতু হয়ে থেকো না।
জাহাজে মাল ভরো, তারপর পাল তুলে দাও
নিশ্চিতভাবে কেউ জানে না
জাহাজটি ডুবে যাবে নাকি গন্তব্যে পৌঁছাবে।
সতর্ক মানুষেরা বলে,
‘নিশ্চিত না হয়ে কিছুই করব না।’
বণিকেরা ভালো জানে,
তুমি যদি কিছুই না করো, তবে তুমি হেরে যাবে।
যে বণিকেরা সমুদ্রে ঝুঁকি নেয় না
তুমি তাদের একজন হয়ো না!
এটি অর্থ হারানো বা উপার্জন করার চেয়েও
অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এটাই তোমার সাথে স্রষ্টার সংযোগ!
আলো পেতে হলে তোমাকে আগুন জ্বালাতে হবে।
বিশ্বাস করার অর্থ হলো
তোমার যা আছে তাই নিয়ে ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত হওয়া।
জীবিকা নিয়ে ভয় এবং আশার কথা চিন্তা করো,
যেগুলো তোমাকে প্রতিদিন অধ্যবসায়ের সাথে
কাজে বের হতে তৈরি করবে।
এখন চিন্তা করো নবীগণ কী করেছেন।
ইব্রাহিম পায়ে আগুনের বেড়ি পরতেন।
মূসা সমুদ্রের সাথে কথা বলতেন।
দাউদ লোহার ছাঁচ বানিয়েছিলেন।
সোলায়মান বাতাসে ভেসেছেন।
অদৃশ্য জগতে অন্তত ততটা কঠোর পরিশ্রম করো
যতটা পরিশ্রম তুমি দৃশ্যমানে করতে পারো।
নবীদের সাথী হয়ে যাও
যদিও তুমি কুতুব-আবদালদের সাহায্যকারী নও।
এর ফলে তোমার কী লাভ হবে
তুমি তা ভাবতে পারবে না!
যদি সেই মহানুভবদের কেউ একজন
তোমাকে তার আগুনে আমন্ত্রণ জানায়
তাহলে তাড়াতাড়ি যাও!
কখনো বলবে না–
‘এই আগুন কি আমাকে পোড়াবে?
এই আগুন কি আমাকে আহত করবে!’
কবিতাঃ অদৃশ্যের কাজ
কবিঃ জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি
অনুবাদঃ আলমগীর কাইজার
(কোলম্যান বার্কসের দ্য সোল অব রুমি বই থেকে)

No comments